দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে পর্যটন খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর বারিধারায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে আয়োজিত A Cocktail Reception to Highlight UK Investment in Bangladesh Tourism Sector শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। দেশে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, চট্টগ্রামের পাহাড় ও হ্রদ, সিলেটের সবুজে ঘেরা চা-বাগান এবং মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা শুধু কয়েকটি পরিচিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেরই নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাকে একটি সুপরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে রূপান্তর করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।
পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পর্যটন খাতের বিকাশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ সহজতর করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিমান চলাচল খাতের সঙ্গে পর্যটন খাতের উন্নয়নের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য বোয়িং ও এয়ারবাসের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্র বহর গঠনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
এ সময় এয়ার কার্গো খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কার্গো ও ডাককে হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ১৭ জুলাই ২০২৬ যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের মূল্যায়নে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছে। তাই এ বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।
যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু উল্লেখ করে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুক্তরাজ্যের জনগণ বাংলাদেশের পাশে ছিলেন। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও বিকাশেও তারা পাশে থাকবেন বলে আশা করি।
তিনি যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশে আসুন এবং আমাদের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ করুন। আমরা আপনাদের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই এবং একটি অনুকূল, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এমএস/